মজুরি আন্দোলনে ৬৭৯ পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ
মজুরি আন্দোলনে ৬৭৯ পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের মজুরি আন্দোলন ঘিরে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ২ নভেম্বর ঢাকাসহ প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ৬৭৯টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শ্রমিকেরা বর্তমানে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ন্যূনতম মাসিক মজুরির পরিবর্তে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন। ঢাকা, আশুলিয়া ও গাজীপুরে সড়ক অবরোধ, কারখানায় ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
রয়টার্স জানায়, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করা শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পুলিশ ও শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা কয়েকটি কারখানায় ক্ষয়ক্ষতি এবং পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
শ্রমিকদের দাবি পর্যালোচনায় মজুরি বোর্ড
শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে মজুরি বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে।
মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের একজন প্রতিনিধি বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শ্রমিক প্রতিনিধিদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকেও উৎপাদকদের ন্যায্য মূল্য পাওয়া জরুরি।
উৎপাদন ও রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগ
কারখানার মালিকেরা বারবার উৎপাদন বন্ধ থাকলে পণ্য সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং কয়েকটি রপ্তানি বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া শিল্পের ওপর চাপ তৈরি করছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আন্দোলনের সময় প্রায় ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় ভাঙচুর হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ কাজ করেন এবং দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে।
সমাধানে আলোচনার গুরুত্ব
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি এবং কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা—দুই বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি বোধগম্য। তবে একবারে বড় অঙ্কের মজুরি বৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তাঁরা ধাপে ধাপে মজুরি সমন্বয়, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
এখন মজুরি বোর্ডের পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান খোঁজার দিকে নজর থাকবে।