পণ্য খালাসে গতি আনতে ২৪ ঘণ্টা চালু চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম
পণ্য খালাসে গতি আনতে ২৪ ঘণ্টা চালু চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম
বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামা ও খালাসের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। দেশের বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় শুল্ক ছাড়করণ এবং ব্যাংকিং সেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে প্রচলিত কর্মঘণ্টার বাইরেও বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের বাস্তবায়িত সাতটি উদ্যোগের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে সার্বক্ষণিক কার্যক্রম চালু করাও রয়েছে।
আমদানি-রপ্তানিতে সময় সাশ্রয়ের প্রত্যাশা
বন্দরের কার্যক্রম দীর্ঘ সময় চালু থাকলে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সুবিধা হতে পারে। শুল্কসংক্রান্ত কাগজপত্র ও ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য হলে পণ্য খালাস এবং অর্থ পরিশোধের অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বন্দরের কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়লে উৎপাদক, রপ্তানিকারক, জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং আমদানিনির্ভর ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতে পারেন।
বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন বিনিয়োগ
চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাসসের প্রতিবেদনে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপিএম টার্মিনালস ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। টার্মিনালটি চালু হলে ৭০০টির বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা প্রায় ৪৪ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়েও কাজ এগোচ্ছে। বাসস জানিয়েছে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বাস্তবায়নই হবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি
২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু হলে পণ্য পরিবহনে গতি আসতে পারে। তবে এর সুফল নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, ব্যাংক, জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন খাতের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
এ ছাড়া আধুনিক সরঞ্জাম, দ্রুত কাগজপত্র নিষ্পত্তি এবং বন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা, আমদানি ব্যয় এবং সরবরাহব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে বন্দরের দক্ষতা সরাসরি সম্পর্কিত। তাই চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বক্ষণিক কার্যক্রম দেশের বাণিজ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার একটি অংশ।